আজ-  ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১লা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» শমশেরনগর ইসলামিক মিশনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত «» কমলগঞ্জে দূর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন ; চ্যাম্পিয়ন কমলগঞ্জ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় «» এম.নাসের রহমান এমপি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড রেটিং দাবা টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন «» শহীদ জিয়ার আদর্শে তৃণমূল থেকে উঠে আসাছাত্রদল,যুবদল হয়ে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী। «» ১৭/০৫/২০২৬মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘের শ্রম মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি «» বৃটেনে নিউপোর্ট রয়্যালস স্পোর্টস ক্লাবের উৎসবমুখর পরিবেশে জার্সি উন্মোচন «» ক্যামেলিয়া হাসপাতাল চালু, ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর যথাযথ তদন্তসহ ৪ দফা দাবিতে চা-শ্রমিকদের স্বারকলিপি প্রদান «» সময় বাড়লো! দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৬-এর জন্য প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বর্ধিত শেষ তারিখ ৩১ মে ২০২৬ «» শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমবারের মতো ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত «» বগুড়া আদমদীঘিতে ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন এলাকা

বাচ্চা লড়ছে হামের সঙ্গে, বাবার লড়াই অর্থ জোগাড়ে

মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, দুর্ভোগে শিশুরোগী ও অভিভাবকরা

দীপ্তনিউজ :
হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা লড়ছে জীবনের সঙ্গে, আর তাদের বাবা-মায়েরা লড়ছেন চিকিৎসার খরচ ও অর্থ জোগাড়ের জন্য। রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর চাপ। অতিরিক্ত রোগীর কারণে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ছেন রোগী ও অভিভাবকদের সামনে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ওয়ার্ডে দেখা গেছে করুণ চিত্র। এখানে সাধারণ বেডগুলোতে একসঙ্গে ৫-৬ জন রোগীকে রাখা হয়েছে। বেড সংকটের কারণে চলাচলের রাস্তার পাশেও রোগী রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ফাঁকা বেডগুলোতেও হাম আক্রান্ত শিশুদের রাখা হচ্ছে।

ওয়ার্ডে প্রবেশ করলেই দেখা যায়, কারও হাতে বা পায়ে ক্যানোলা লাগানো, কারও মুখে অক্সিজেন মাস্ক, কারও নাকে নল, কারও শরীরে চলছে স্যালাইন। শিশুগুলোর অসহায় চাহনি যেন বলছে—কেউ এলেই বুঝি আবার ব্যথা দেবে। চারদিকে শুধু কান্না আর আহাজারির শব্দ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে সন্তানকে রাখার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা আর চিকিৎসা খরচের চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন অনেক বাবা-মা। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে পড়ে থেকে নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

ওয়ার্ডের বাইরে ইউনিটের বারান্দায় ও করিডোরে অনেক মানুষ পাটি বিছিয়ে শুয়ে আছেন। চোখে-মুখে ক্লান্তি ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, কয়েক রাত ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। যদিও বর্তমানে রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে, তবে কয়েকদিন আগেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল বলে জানান তারা।

সচেতন মহলের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুমৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি। তাই দ্রুত হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা জরুরি।

দেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা মনে করছেন, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

সূত্র দৈনিক মানবজমিন